রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

৩ মাসের মধ্যে রামিসার হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক:: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই পল্লবীতে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।

রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ যে ফার্স্ট ট্র্যাকে রামিসা হত্যার বিচার হলো এটা সরকার একা করেনি। প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত থাকা বিচারপতিদের ছুটি বাতিল না করতেন, তাহলে এই ফার্স্ট ট্র্যাক সরকারের পক্ষে সম্ভব হতো না।

তিন মাসে বিচার শেষ করার প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী জানান, যদি এক সপ্তাহের মধ্যে ফাইল হাইকোর্টে আসে, তাহলে পরের সপ্তাহ থেকেই পেপার বুক প্রস্তুতের কাজ শুরু করা সম্ভব। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে পেপার বুক সম্পন্ন করা সম্ভব হলে, বিশেষ বিবেচনায় মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য উপস্থাপন করা যেতে পারে। শুনানি দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হলে মামলাটি আপিল বিভাগে যাবে। এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন মাস সময় লাগতে পারে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রত্যেকটি মামলাকে ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা একটি বাস্তবসম্মত পথ খুঁজছি, যাতে এই মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নেওয়া যায়।

এর আগে তিনি আরও বলেন, আসাদুজ্জামান বলেছেন, কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসার মতো একটি বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।

আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি ঘটনায় নদীয়া সেশন কোর্টে মুল্লুক চাঁদ নামে এক ব্যক্তি তার নয় বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার মামলার বিচার একদিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত বিচার আর সম্ভব হয়নি। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে সেদিন থেকেই ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় ১ জুন মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের ছুটি শেষে ওই দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

অভিযোগ গঠনের দিন সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ জানান, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com